বাহুবলে আইন অমান্য করে দেদারসে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ, আতঙ্কে বাসিন্দারা

আলফা বেগম, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বাহুবলের হামিদনগরে নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবন। পাশেই বসবাস করছেন অসংখ্য মানুষেরা। তাছাড়া রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও ডিএনআই সরকারি স্কুল সহ জনযোগাযোগের রাস্তাঘাট।
এতে বাসিন্দারা- দুর্ঘটনার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভবন নির্মাণ বন্ধ না করা গেলে বসবাসে অনুপযোগী ও অনিরাপদের আশংকার দাবীও জানান। তাছাড়া ঝুঁকিমুক্ত (ভবন) নির্মাণে আইন থাকলেও তা বাস্তবায়নে অকার্য দেখা দিয়েছে। নির্মাণ বিধিমালার বাস্তবতা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণপ্রবণতা বেড়েই চলেছে। হবিগঞ্জের বাহুবলের হামিদনগর সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে আবাসিক ভবন নির্মাণের চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। ভবন নির্মাণের নকশার অনুমোদনের প্রয়োজন হলেও ওইসবের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মান একদিকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে বিরোধপূর্ণও সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের মালিকরা তাদের ইচ্ছেমতো খালি জায়গা না রেখেই ভবন নির্মাণ করছেন। কেউ কেউ রাস্তার জায়গাসহ অন্যের জায়গার ওপর ভবন তুলে দিচ্ছেন। এই অবৈধ প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্টি হয় বিরোধ। বিরোধপূর্ণ এ ধরনের ভবন নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ তুলছেন এলাকাবাসী। এমনি অভিযোগ উঠছে উপজেলার মহিষদুলং গ্রামের মৃত আঃ বারিকের পুত্র আঃ আজিজ বুলু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি হামিদনগরে মাত্র ১ শতক জায়গার উপর ৪তলা একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবেঁ ভবনের পাশে কী পরিমাণ খালি জায়গা রাখতে হবে, ভিত্তিপ্রস্তর অনুযায়ী ভবনটি কয়তলা হবে—সবকিছুর সুনির্দিষ্ট বিধিমালায় উল্লেখ করা থাকলেও ঘটছে তার বিপরীত। ভবন নির্মাণ পরবর্তীালে বসবাসের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বর্ণনা দিয়ে এলাকার বাসিন্দা দুলাল মিয়া, সিরাজুল ইসলাম,আনোয়ার মিয়া ও জাহাঙ্গীর মিয়া সহ অনেকেই বলেন, দুর্ঘটনার ভয়ে ইতিমধ্যে একটি পরিবার বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এছাড়া ভবনের কাজ চলাকালীন যন্ত্রণাংশে বৈদ্যুতিক তারে পড়ে অগ্নিকান্ডের সংখ্যা ছিল। দুর্বল নির্মাণ কাঠামো ভবন হেলে পড়া ও ভূমিকম্পে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করেছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকার লোভে ভবনের মালিকরা জমি সংকুচিত এবং বাড়ি বড় করে ভবন নির্মাণ করছেন। সেই বাড়ি কিংবা ভবনে আলো-বাতাস-অক্সিজেন প্রবেশ করছে কি না সে কথা ভাবছে কেউ। যদি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয় বা ভবন ধসে পড়বে এমনকি আগুন লাগলে যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারে আঃ আজিজ বুলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভবন নির্মানের কথা স্বীকার করেন তবেঁ একাধিক প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিতে পারেননি। কিন্তু কারও ক্ষতি হোক এমনটি চাননি বলে দাবী করেন।

আরও পড়ুন...

বানিয়াচংয়ে রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ৮ জন করোনা পজিটিভ, রয়েছেন ইউএনও এবং ডিজিএম

বানিয়াচংয়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

বানিয়াচংয়ে পুলিশের অভিযানে যৌতুক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার