বানিয়াচংয়ে অর্থ ছাড়া সরানো হচ্ছেনা বৈদ্যুতিক খুঁটি ;হাজারো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া হুমকির মুখে

জীবন আহমেদ লিটন ; হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বড়াবাজার আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ শত। কোমলমতি শিশুদের পাঠদানের জন্য হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খানের প্রচেষ্ঠায় ওই বিদ্যালয় আঙ্গিনায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন। কিন্তু ৩টি বৈদ্যুতিক খুটির জন্য ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। অপরদিকে ২৫ হাজার টাকা জমা না দিলে খুটি অপসারণ করতে নারাজ পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা যায়, প্রাইমারী স্কুলটিতে সাড়ে ৭ শত শিক্ষার্থীর জন্য কক্ষ রয়েছে মাত্র ৩ টি। শিক্ষার্থীদের তুলনায় কক্ষ প্রয়োজন ১৩ টি। ঐতিহ্যবাহী ওই স্কুলটির বহুতল ভবনের জন্য কর্তৃপক্ষ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে মামুন এন্টারপ্রাইজকে ঠিকাদার নিয়োগ করেন। ঠিকাদার দ্রæত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে দেয়। কিন্তু স্কুল আঙ্গিনায় ৩ টি কৈদ্যুতিক খুটির জন্য ঠিকাদার নির্মাণ কাজ করতে পারছেন না। এ প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক তাজ উদ্দিন বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম বরাবর খুঁটি অপসারণ চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেন।

একমাস পর হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একটি ইস্টিমিট করে ২৫ হাজার টাকা জমা দিতে প্রধান শিক্ষককে চিঠি প্রেরন করে। অথচ অত্র কাজে সরকারের তরফ কিংবা স্কুলের পক্ষ থেকে কোন বরাদ্দ নেই। অপরদিকে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করায় সন্তানদের পড়াশোনার কথা চিন্তা করে অভিবাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে ফুঁসে উঠছেন। যে কোন সময় আন্দোলনে নামার কথা জানিয়েছেন অনেকে।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক তাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, আমার স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণীকক্ষ প্রয়োজন ১৩ টি। বর্তমানে ৩ টি কক্ষে তাদের পাঠদান দেয়া হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন করোনা ঝুঁকি বাড়ছে অপরদিকে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম জনস্বার্থে খুুটিগুলি অপসারণ করতে পারেন। কিন্ত তিনি অকারনে গড়িমসি করছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত বিবেচনায় দ্রæত খুটি অপসারণ করার জোর দাবী জানান তিনি। ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে খুটিগুলি সরানোর জন্য পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো দাবী জানান।

এব্যাপারে বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম প্রকৌশলী মামুন মোল্লা জানান, খুটিগুলো সরানোর জন্য তিনি শায়েস্তাগঞ্জে চিঠি লিখেন। সেখান থেকে ইস্টিমিট করে খরচ বাবদ অর্থ জমা দেয়ার চিঠি প্রদান করা হয়। তবে যদি স্কুল কর্তৃকপক্ষ টাকা দিতে ব্যর্থ হন তাহলে তিনি নীতিমালা মোতাবেক বিনা অর্থে খুটি অপসারণ করার চেষ্ঠা করবেন। সেক্ষেত্রে একটু বেশী সময়ের প্রয়োজন

আরও পড়ুন...

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন লক্ষীবাওরে উদ্বোধন :৫ কিলোমিটার দৌড়লেন রানাররা

প্রধানমন্ত্রীর উপহার : ১২ শ -দরিদ্রদের চাউল দিলেন চেয়ারম্যান ওয়ারিশ উদ্দিন খান

স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা স্বারক দিলেন বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ