শ্রদ্ধাঞ্জলি ‘সজল খালেদ’ আমরা তোমাকে ভুলবো না-পিয়ানুর আহমেদ হাসান

বিশিষ্ট চলচিত্র নির্মাতা পর্বত আরোহী মোহম্মদ খালেদ হোসেন এর ডাক নাম সজল খালেদ। যিনি বাংলাদেশের গর্ব ও একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক ছিলেন। চলচিত্র নির্মাতা হিসাবেও তিনি আত্মপপ্রকাশ করেন খুব অল্প বয়সে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রকে নিয়ে একাত্তরের  শব্দ সেনা’ চলচিত্র পরিচালনা করেন সজল খালেদ নিজেই আর তার সহযোগী ছিলেন কাওসার আহমেদ । এছাড়াও মুহাম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে ‘কাজলের দিনরাত্রি’ নামে একটি শিশুতোষ চলচিত্র একাই নির্মাণ করেন সরকারী অনুদানে।

পর্বতারোহণ নিয়ে এডমন্ড ভিস্টর্সেলের লেখা একটি বই তিনি অনুবাদ করেছেন যার নাম ‘পর্বতের নেশায় অদম্য প্রাণ’ যা প্রকাশিত হয়েছিল বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের শীর্ষ শ্রেণীর পর্বতারোহী। একজন পর্বত আরোহী হিসেবে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলন ভারতের সিকিমের ফ্রে পর্বত (২০০৬), হিমালয়ের মেরা পিক (২০০৭), অন্নপূর্ণা রেঞ্জের সিংগুচুলি পর্বত (২০০৮), নেপালের মাকালু দুইবার (২০০৯ ও ২০১১), বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ পিক (২০১০)প্রভৃতি পর্বত শিখরে।

বহু গুনে গুনান্বিত এই মানুষটি জন্ম গ্রহন করেন মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার আটপাড়া ইউনিয়নের হাসারগাও গ্রামে । বাবা আব্দুল আজিজ ও মাতা সখিনা বেগম। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ছাত্র জীবন শুরু আদমজি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে। ১৯৯৩ সালে এসএসসি ও ১৯৯৫ সালে এইচএসসি পাশ করার পর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে স্নাতক এবং ফিল্ম স্টাডিজে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালে গনমাধ্যম কর্মী তাহমিদা খান শৈলীকে বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র সন্তানের নাম সুস্মিত হোসেন।

এতগুলো পর্বত জয় করেও তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তার সর্ব শেষ স্বপ্ন ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া এভারেস্ট জয়। সেই স্বপ্ন নিয়ে সজল খালেদ ২০১১ সালের মে মাসে এভারেষ্ট অভিযানে গিয়েছিলেন। উঠেছিলেন প্রায় ২৩ হাজার ফুট পর্যন্ত। কিন্তু সেখান থেকে অসুস্থ হয়ে ফিরে আসেন তিনি। এভারেষ্ট জয়ের এত কাছ থেকে ফিরে আসা মেনে নিতে পারেননি। আবার ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে ২য় বারের মত এভারেষ্ট অভিযানে বের হয়ে নেপালের সাউথ ফেস দিয়ে ২০ মে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেষ্টের ২৯.০৩৫ ফুটে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে (এভারেষ্ট জয় করে) নেমে আসার পথে ৮.৬০০ মিটার উচ্চতায় হিমালয়ের বরফের বিশাল রাজ্যে অজানা কারনে হারিয়ে যান।

সজল খালেদ নিখোজের পরপরই বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারের যৌথ উদ্যোগে তার খোজে হেলিকাপ্টারে একটি বিশেষ দল পাঠানো হয়। কয়েক দিন চেষ্টা করেও কোন সন্ধান পাননি তারা। বৈরী আবহাওয়ার কারনে শূন্য হাতে ফিরে আসতে হয় তাদের। সজল খালেদ বাংলাদেশের পঞ্চম এভারেস্ট জয়ী এবং এভারেস্ট জয় করে ফেরার পথে মৃত্যুবরণকারী প্রথম বাংলাদেশী। তার অকাল মৃত্যু খুব বড় না হলেও ছোট একটি মর্মান্তিক ইতিহাস। একজন দেশ প্রেমিক নাগরিকের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ। আজ ২০ মে সজল খালেদের চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী। গভীর শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করছি এই দেশ প্রেমিক বীর কে। প্রিয় সজল খালেদ আমরা তোমাকে ভুলবো না।

প্রতিবেদক- লেখক ও সংবাদ কর্মী

আরও পড়ুন...

সিলেটের মহানগর হাকিম আদালতে লোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছেন ধর্ষিতা তরুণী

অনলাইন ডেস্ক, দৈনিক অনুসন্ধান

বানিয়াচং বিদ্যুৎ অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করলেন ডিজিএম মামুন মোল্লা

অনলাইন ডেস্ক, দৈনিক অনুসন্ধান

কিংবদন্তী সাংবাদিক খেলু’র মৃত্যুবার্ষিকীতে বানিয়াচং রিপোর্টার্স ইউনিটির দোয়া মাহফিল

অনলাইন ডেস্ক, দৈনিক অনুসন্ধান